তাজমহল সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য যা আপনি আগে জানতেন না
তাজমহল বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্য হলেও, এর দেয়াল এবং ইতিহাসের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অনেক বিস্ময়কর রহস্য। নিচে তাজমহল সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য দেওয়া হলো যা আপনাকে অবাক করবে:
১. দিনের বিভিন্ন সময়ে রঙের পরিবর্তন
তাজমহলের শ্বেতশুভ্র মার্বেল পাথর আলোর প্রতিফলনে দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রঙ ধারণ করে। ভোরে এটিকে কিছুটা গোলাপি, দুপুরে ঝকঝকে সাদা এবং পূর্ণিমার রাতে সোনালি বা হালকা নীল দেখায়। বলা হয়, এই রঙের পরিবর্তন নারীর পরিবর্তনশীল মেজাজকে ফুটিয়ে তোলে।
২. মিনারগুলো সোজা নয়, বরং হেলানো
তাজমহলের প্রধান গম্বুজকে ঘিরে থাকা চারটি মিনার একদম সোজা নয়, বরং সামান্য বাইরের দিকে হেলানো। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে যাতে ভূমিকম্পের মতো বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মিনারগুলো ভেঙে পড়লেও তা যেন মূল সমাধির ওপর না পড়ে বাইরের দিকে পড়ে।
৩. ব্রিটিশদের তাজমহল বিক্রির পরিকল্পনা
উনিশ শতকের দিকে ভারতের তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক তাজমহল ভেঙে এর মার্বেল পাথরগুলো লন্ডনে নিলামে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সৌভাগ্যবশত, পর্যাপ্ত ক্রেতা না পাওয়ায় এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে তাজমহল রক্ষা পায়।
৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘বাঁশের ছাতা’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এবং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাজমহলকে শত্রুদেশের বোমারু বিমান থেকে রক্ষা করতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এটিকে বিশাল বাঁশের মাচা দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন। ফলে ওপর থেকে দেখলে এটি একটি বাঁশের স্তূপ মনে হতো এবং শত্রুপক্ষ একে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারেনি।
৫. শাহজাহান ও মমতাজের আসল সমাধি নিচে
পর্যটকরা তাজমহলের ভেতরে যে দুটি কবর দেখতে পান, সেগুলো আসলে নকল (Cenotaphs)। সম্রাট শাহজাহান এবং মমতাজ মহলের আসল সমাধিগুলো মূল ভবনের নিচে একটি সাধারণ অন্ধকার কক্ষে অবস্থিত, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়।
৬. ক্যালিগ্রাফিতে চোখের ভ্রম (Optical Illusion)
তাজমহলের গায়ে কোরআনের যে ক্যালিগ্রাফিগুলো আছে, সেগুলো নিচে থেকে ওপর পর্যন্ত সমান আকৃতির মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে ওপরের অক্ষরগুলো নিচের চেয়ে অনেক বড় করে লেখা হয়েছে, যাতে নিচ থেকে তাকালে সেগুলো একই মাপের এবং নিখুঁত মনে হয়।
৭. যমুনা নদী না থাকলে তাজমহল ধসে পড়ত
তাজমহলের ভিত্তি (Foundation) তৈরি করা হয়েছে এক ধরনের বিশেষ কাঠের ওপর (Ebony wood), যা টিকে থাকার জন্য প্রচুর আর্দ্রতা বা জলের প্রয়োজন হয়। যমুনা নদী যদি শুকিয়ে যায়, তবে এই কাঠ ভঙ্গুর হয়ে যাবে এবং তাজমহলের ভিত্তি দুর্বল হয়ে ধসে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
৮. শ্রমিকদের হাত কাটার গল্পটি কি সত্যি?
জনশ্রুতি আছে যে তাজমহল তৈরির পর সম্রাট শাহজাহান শ্রমিকদের হাত কেটে দিয়েছিলেন যাতে তারা আর এমন কিছু তৈরি করতে না পারে। তবে ঐতিহাসিকদের মতে এটি একটি মিথ বা লোককথা। এর কোনো শক্তিশালী ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই; বরং অনেক শ্রমিকই পরবর্তীতে অন্যান্য মুঘল স্থাপনায় কাজ করেছিলেন।
৯. কুতুব মিনারের চেয়েও উঁচু
অনেকেই মনে করেন দিল্লির কুতুব মিনার ভারতের সবচেয়ে উঁচু মিনার। কিন্তু বাস্তবে তাজমহলের উচ্চতা কুতুব মিনারের চেয়েও প্রায় ৫ ফুট বেশি। তাজমহলের উচ্চতা ৭৩ মিটার, যেখানে কুতুব মিনারের উচ্চতা ৭২.৫ মিটার।
১০. নিখুঁত প্রতিসাম্য (Symmetry)
তাজমহল হলো স্থাপত্যের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত প্রতিসাম্য স্থাপনা। এর চারপাশ সব দিক থেকেই সমান। তবে এই নিখুঁত ভারসাম্যে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো সম্রাট শাহজাহানের নিজের কবরটি, যা মমতাজ মহলের কবরের পাশে কিছুটা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে রাখা হয়েছে।
মজার তথ্য: তাজমহলের প্রধান ফটকের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে, আপনি যত কাছে যাবেন তাজমহল তত ছোট মনে হবে এবং যত দূরে যাবেন তত বড় মনে হবে!








